২২ সেপ্টেম্বর ২০২২৷
মাকে কাঁদিয়ে বিদায় জানালাম জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে৷ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন৷
পৌঁছালাম ২৩ তারিখের প্রথম প্রহরে৷ রাজশাহী শহরে আমার কোনো থাকার জায়গা নাই৷ পরিচিতও কেউ নাই৷ তবে ভর্তি পরিক্ষার সময়ে একবন্ধুর বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিলো৷ আসার পূর্বে তার সাথেই কথা বলে আসি৷ রাত ২টায় পৌঁছাই৷ পৌঁছেই চলে যাই সৈয়দ আমীর আলী হলে, ভাইয়ের রুমে৷ রুম নাম্বারটা মনে নাই৷ এরপর নিজের ট্রাঙ্ক, সব কিছু রেখে ভাবলাম বিনোদপুরে যাই একটা সিগারেট খেতে৷
গেলাম। ঘড়ির কাটায় আনুমানিক সাড়ে তিনটা পার৷ সেপ্টেম্বর মাস৷ হালকা শীতল বাতাস৷ দোকানে যেয়ে বসা মাত্রই একটি মেয়ে সেথায় উপস্থিত৷ মেয়েটির সাথে আরো দুজন ছিলো৷ আমি তাদেরকে অবশ্য আন্টি বলে সম্ভোধন করেছিলাম৷ কিন্তু মেয়েটিকে প্রথম দেখায় ভালোই লেগেছিলো৷ তাই তাকে কোনোকিছুতেই সম্ভোধন করিনি সেবার৷ আমি অনেকটা ইসলামিক মাইন্ডেড ছিলাম তখন৷ তাই আমি মেয়েটাকে একবারই দেখেছিলাম৷ শুধু তার ঠোঁটে লাগানো হাসিটুকু আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে সংরক্ষিত ছিলো৷ বিবিএ ফ্যাকাল্টির এক বড় ভাইও সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷ রাফি ভাই৷ ২০-২১ সেশন৷ বাড়ি নীলফামারি৷ ওনার বড়বোনও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন৷ এলাকায় চেয়ারম্যানও সম্ভবত৷ ওনার বাবা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার ছিলেন৷ ভাইয়ের সাথে পরবর্তীতে আমার রাজনৈতিক এবং একপর্যায়ে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷
সেবারে আমার আর সিগারেট খাওয়া হলো না৷ আর আমি এমনিতেও মেয়েদের সামনে অনেক লাজুক৷ কথা বার্তা যা হলো, মেয়েটির সাথে থাকা দুজনের সাথেই হলো৷ পরবর্তীতে জানতে পারি একজন ছিলো পিসি অন্যজন দিদি৷
ভোরের আলো ফুটতে আমি হলে ফিরে আসি, আর সে তার দিদি, পিসিসহ যায় পূর্বে ঠিক করে রাখা মেসের খোঁজে৷
এরপর থেকে আমি মেয়েটার সেই হাসিকে ভুলতেই পারি না৷
ছেলেরা প্রেমে পড়ে কমন বিষয়েই৷ আমি ভাবতাম প্রত্যেক প্রেমিক হয়তো ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণে প্রেমে পড়ে৷ কিন্তু জনপ্রিয়তা পায় চোখ, ঠোঁট, চুল, হাসি৷
যেহেতু আমারও সেই কমনের মধ্যেই কারনটি ছিলো, আমিও আর দশটা ছেলের ব্যতিক্রম হতে পারিনি৷ মেয়েটিকে আমি পাগলের মতো খোঁজা শুরু করলাম৷ ওই সময় আমার কিছুই মনে থাকতো না৷ তাই ভুলে গিয়েছিলাম নাম, ভুলে গিয়েছিলাম ডিপার্টমেন্ট৷ শুধু মনে ছিলো ফ্যাকাল্টি আর তার উপজেলা৷
ক্লাস শুরু হলো৷ সব ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব মেসেঞ্জার গ্রুপ খোলা হলো৷ আমার সব ডিপার্টমেন্টেই বন্ধুবান্ধব ছিলো কম বেশি৷ আমি বরাবরই একা চলতে পারি না বা থাকতে পারি না৷ তাই আমার বন্ধুমহল প্রসস্থ ছিলো৷
যেহেতু মেয়েটি বানিজ্য ফ্যাকাল্টির, সেই ফ্যাকাল্টির আওতাধীন হিন্দু মেয়েদের লিস্ট করে ফেলেছিলাম৷
মেয়েটিকে পেয়েছিলাম৷ কিন্তু আমার ভুলে যাওয়া রোগ থাকায় শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছিলাম না৷
এরপর কেটে গেলো ৫টা মাস৷ সরস্বতী পূজা৷ আমি মেয়েটিকে দেখলাম৷ তারপরও সন্ধিহান, এই কি সেই মেয়ে ছিলো?
কয়েকবার তাকালাম তার দৃষ্টিতে প্রতিফলন তৈরি করতে৷
অবশেষে যখন চোখাচোখি হলো, বৈবাহিক ভাষায় যাকে বলে শুভদৃষ্টি, আমি তার ঠোঁটে সেই হাসিটি খুঁজে পাই যে হাসিটা আমি প্রথম দিন দেখে তার মায়ায় পড়েছিলাম৷
হ্যাঁ, মিলেছে৷ এই সেই নারী৷
এরপর তার ডিপার্টমেন্টে আমার যে বন্ধু আছে, তার থেকে ফেসবুক আইডি নেই৷ তবে আমার প্রথম প্রথম একজন মেয়েকে নক দিতে অসস্তি লাগতেছিলো৷ আমি আমার সেই বন্ধুর মাধ্যমে তার কাছে অনুমতি নেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানোর৷ গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পরেই শুরু হয় আমাদের কথপোকথন, যা আদ্যবদ্ধি তিন বছরে চলমান৷
আমি তাকে বোন বানাই নি৷ আমি পূর্বে সব মেয়েকে আপু, দিদি বলে সম্ভোধন করতাম৷ অনুজ, কিংবা জ্যেষ্ঠ সবাইকেই একই সম্ভোধন করতাম মেয়ে ইস্যুতে৷ বলতে পারেন পারিবারিক শিক্ষা৷ আমি তাকে সম্ভোধন করলাম বালিকা বলে৷
সবকিছুই ভালো চলেছিলো৷ কিন্তু জীবনে প্রেমের অভিজ্ঞতা, নারীর সাথে মেশার পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার ছিলো না৷ এসএসসির পর ফেসবুকে পরিচয় হয় শ্রাবন্তী নামে এক মেয়ের সাথে৷ আমার মেয়ে বন্ধু বলতে সেই একমাত্র৷ শ্রাবন্তীকে জানাই একটা মেয়েকে আমার ভালো লাগছে৷ প্লিজ পটিয়ে দিন৷
শ্রাবন্তী আইডি লিংক চাইলো৷ দিলাম৷
শ্রাবন্তী ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়, কিন্তু বহুদিন অতিক্রম হওয়ায় আমি রিকুয়েস্ট বাতিল করতে বলি৷
কারন আমি চাই না আমার জন্য আমার বন্ধু এভাবে ইতস্থবোধ করুক৷
আমাদের কথা চলতে থাকে৷ আমি কবিতা লিখতাম তাকে নিয়ে৷ কারনে অকারনে একটু কথা বলার জন্য মেসেজ দিতাম৷ আমার হলে তার ডিপার্টমেন্ট এর এক সিনিয়র ভাই ছিলো৷ মাস্টার্সের৷ ভাইয়ের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক বলতে গেলে৷ একসাথে সিগারেটও খেয়েছি৷ একদিন তার কাছে অবদার করে বসলাম দাদা আপনার বোনটাকে আমার করে দেন৷ ওকে একাডেমিক সবধরনের সাহায্য কইরেন৷ দাদা বললো মেয়েটাকে দেখা তো৷ দেখালাম মেয়েটির প্রফাইল৷ দাদা জানালো একদিন দেখা করাই দিস৷ তোর সাথে মিল করিয়ে দিবোনে৷ তারপর একদিন দূর থেকে দাদাকে দেখালাম৷ দাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷
আমার যে বন্ধুর মারফত ওর আইডিটি পেয়েছিলাম, ও প্রচন্ড সম্মান করতো আমায়৷ বন্ধুত্বের সম্মান৷ আমার একচ্ছত্র সঙ্গী ছিলো সে৷ আমার দুঃখ-কষ্টের অনেক কথাই শেয়ার করতাম ছেলেটার সাথে৷ তার বান্ধবীকে নিয়েও অনেক কথা হতো৷ মধ্যরাতে একদিন ছেলেটাসহ আমি যাই ফুলতলা পদ্মাপাড়ে৷ শীতল বাতাসে সুঃখ, দুঃখের আলাপ করতেছিলাম৷ আমি অনেক আগে থেকেই বিয়ে পাগল ছিলাম৷ মাকে বরাবরের মতো সেদিনও বললাম বিয়ে করাই দেও আমায়৷ মা জানায় অনার্স শেষ হোক৷ এরপর আমার ওই বন্ধুর সাথে মায়ের কথা বলিয়ে দেই৷ প্রথমবার কথাতেই কোনোকিছু না ভেবে সরাসরি বলে বসে, ❝আন্টি সুরঞ্জন আমার বান্ধবীকে পছন্দ করে৷ আমার বান্ধবীও সুরঞ্জনকে অনেক পছন্দ করে৷ ওদের বিয়ে দিয়ে দেন৷❞ মা জানায়, অনার্সটা শেষ হোক আগে৷ এরপর বিয়ে দিয়ে দিবো৷
ওই যে একটা আগুন জ্বালিয়ে দিলো আমার ঘরে, এরপর থেকে বাড়িতে বিয়ের কথা বললেই মা জানায় ওকে বিয়ে করে নিয়ে আয় আমি মেনে নিবো৷ এদিকে মেয়েটির সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও স্থাপিত হয়নি সেভাবে৷
এরপর সময় তার নিজ গতিতে চলতে থাকে৷ আমার দিক থেকে তার প্রতি মায়া দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর বাড়তেই থাকে৷ এরপর আমার জীবনে নেমে আসে রাজনৈতিক বিপর্যয়৷ ক্যাম্পাসে যাওয়া বন্ধ হলো৷ ওর খোঁজ খবর রাখার জন্য ওর ডিপার্টমেন্টের ২/৩ জনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো আমার৷ একদিন একজন জানায় মেয়েটির একজনের সাথে সম্পর্কে আছে৷ অনেকটা কষ্ট লাগছিলো সেদিন৷ তবে এটা ভেবেও ভালো লেগেছে আমি যে মানুষটাকে হৃদয়ে অনুভব করি, সে তার ভালোবাসার মানুষ পেয়ে গেছে৷ খুব জানতে ইচ্ছা করলো কে সেই সৌভাগ্যবান পুরুষ, যে সেই ঠোঁটের হাসিকে নিজের করে পেতে চলেছে৷ খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আমায় প্রতিশ্রুতি দেয়া বড় ভাই, যিনি আমায় বলেছিলেন তোদের মিল করিয়ে দিবো, সেই দাদা আমাকে ঠকালো৷ সেদিন অনেক কান্না করেছিলাম৷ না মেয়েটিকে হারানোর জন্য না৷ এক বিশ্বাসের খুন হওয়ার জন্য৷
কয়েকদিন মেয়েটাকে নক দেই নাই৷ কোন সম্পর্কের জেড়ে তাকে আমি মেসেজ দিবো? আমি তো কোনো মেয়েকে বন্ধু বানাতে চাই না৷ আমি হুমায়ন আহমেদের অনেক বড় ভক্ত, কিন্তু তিনি আমার প্রিয় লেখক নন৷ হুমায়ন আহমেদ বলেছিলেন, ছেলে মেয়েদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় না৷ কেউ না কেউ প্রেমে পড়বেই৷ আমি নরম হৃদয়ের মানুষ, প্রেমে পড়লে সেথা থেকে উত্তোরণ আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই কখনো মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করিনি৷ যে শ্রাবন্তীর কথা বললাম, বন্ধু উল্লেখ করলাম৷ আসলে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্কই ছিলো না৷ কয়েকবার রাখী পড়াতে চেয়েও সে পড়ায়নি৷
যেহেতু আমার ভালোবাসা, যত্ন, আবেগ সবকিছুতেই মেয়েটির অবস্থান ছিলো, আমি মায়ায় আবদ্ধ হয়ে গেছি তার প্রতি পুরোপুরি, তাই আমি চেয়েছিলাম যেকোনো একটা সম্পর্কে যোগাযোগ থাকুক৷ যোগাযোগ এর জন্য যেমন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তেমনি দুটি মানুষের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজন পড়ে সম্পর্কের৷
কি সম্পর্ক স্থাপন করবো তার প্রতি?
এরপর মনে পড়লো, ও বলেছিলো ওর বাবা জীবনদশায় যে রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলো, আমিও বর্তমানে সেই দলেরই অনুগত্য৷
তাই সবকিছু চিন্তা করে তাকে ভাতিজিজ্ঞানে সম্ভোধন করতে থাকলাম৷
রাজনীতিতে চলে ভাই নীতি৷ স্লোগান ধরলে বাবা হলেও বলতে হয় অমুক ভাইয়ের সালাম নিন৷ সেই সূত্রমতেই একদলীয় রাজনৈতিক মতাদর্শ হওয়ায় মেয়েটির বাবা হয়ে যায় আমার দলীয় ভাই আর সে হয় আমার ভাতিজি৷
ভাতিজি বানানোর আরেকটি কারনও ছিলো বটে৷ আমি যেনো কখনো দূর্বল হয়ে না পরি তার জন্য, কখনো যেনো পূর্বের মতো তাকে পাওয়ার বাসনা না জন্মে হৃদয়ে, নিজেকে শান্তনা দিতেই ভাতিজি করা৷ ভাতিজি মেয়েতুল্য৷ আর ধর্মমতে ওইদিকে আগানোর চিন্তা করাও পাপ৷
এরপর শুরু হয় কাকা-ভাতিজির সম্পর্ক৷ যে ভালোবাসা, আবেগ, জন্মেছিলো তা আছেই৷ পুরুষ যখন কাউকে মন দিয়ে ভালোবাসে, তাকে সহজে ভুলতে পারে না৷ আর আমি তাকে ভুলতে চাই না৷ আমার ভালোবাসা টিকে থাকুক। যেকোনো মূল্যে টিকে থাকুক৷
আমার পূর্বের ভালোবাসাকে আমি নতুন মোড়কে তার সামনে জাহির করবো৷ কিন্তু কখনোই বলবো না আমি তোমায় ভালোবাসি, আমি তোমায় ভালোবাসতাম কিংবা ভালোবাসবো৷
ভালোবাসা কথাটি প্রকাশিত হলে তার মৃত্যু ঘটবে৷ তার সাথে এই দীর্ঘদিন মিশে যা বুঝলাম৷
আমি আমার ভালোবাসাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তার প্রতি আমার অনুভুতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই৷ তাই এই ভালোবাসা কোনোদিনও প্রকাশিত হবে না৷
এভাবেও ভালোবাসাকে জেতানো যায়৷
আমিই জয়ী হলাম এই যাত্রায়৷
আমি তার প্রতি যত্নশীল৷ প্রবলমাত্রায় যত্নশীল৷ একদিন কথা বলতে না পারলে দম বন্ধ হয়ে আসে আমার৷ কিছুদিন আগে তার উপর রাগ করে বলেছিলাম যে আগে মেসেজ দিবে সে কুকুরের গু খায়৷ এরপর সে মেসেজ দেয়ানি আমায় বহুদিন৷ কিন্তু তার এই অনুপস্থিতি আর দুজনের ইগো, আমায় খুঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দিচ্ছিলো৷ আমার রাতে ঘুম হতো না৷ কান্না পেতো খুব৷ কতভাবে চেষ্টা করলাম সে না হয় আমায় আগে মেসেজ দিক, কিন্তু দিলো না৷ আমিই সব ইগোকে সমাধিস্থ করে কথা বলা শুরু করলাম৷
ভালোবাসার মানুষটির প্রতিটা কথাই যেনো বেদবাক্যতুল্য৷ সে আমার কোনো কথাই শুনতো না৷ যদিও আমি নিজ স্বার্থে কিছুই বলতাম না তাকে৷ তার স্বার্থে, তার সুন্দর ভবিষ্যৎ এর স্বার্থে আমি অনেক কিছুই বারণ করতাম৷ রাগ দেখাতাম অধিকারহীন সম্পর্কের মাঝেও৷ কিন্তু আফসোস, সে শুনতো না৷ অতিরিক্ত ভালো চাওয়া, অতিরিক্ত যত্ন হয়তো আমার প্রতি তার দিকটাকে বিষিয়ে তুলেছিলো৷
সে যেবার বলেছিলো আমার নেশার জীবন দেখে তার খারাপ লাগে৷ এরপর থেকে আমি নেশা করাও ছেড়ে দিয়েছি৷ তাকে দেবী হিসেবে মান্য করি আমি৷
সে আমায় বন্ধু ভাবুক, অথবা কাকা, আমি যে ভালোবাসাটা চেয়েছিলাম চেয়েছিলাম খুব করে এতদিন, তার এই বারণটুকু৷ চেয়েছিলাম কেউ একজন আমায় মানা করুক নেশাগ্রহণ করা থেকে৷ আমি তার কাছে সেই বারণটুকু পেয়েছি৷
আমি আবারো জিতে গেলাম৷ জিতে গেলো আমার ভালোবাসা৷
আমার জীবনে যখন একজন স্থায়ী সঙ্গী আসবে, সামাজিকভাবে স্বীকৃত সেদিন না হয় জানাবো আমার এই ভালোবাসার কথা তাকে৷ কারন তখন প্রত্যাখিত হলে আমার কোমলমতী শিশুসুলভ মনকে আঁকড়ে ধরার একজন সঙ্গী থাকবে৷ আর যদি কখনো সেই সঙ্গীটাও জীবনে না আসে, তার পূর্বেই যদি পরবারের ডাক আসে, এই স্মৃতিমূলক প্রবন্ধে বাস্তবিক একজনের পরিচয় দিয়ে গেলাম৷ তার থেকে না হয় জেনে নিয়ে তৈরি হবে কালজয়ী এক সিনেমা, যে সিনেমায় ব্যর্থতা নয় বরং এক চিরশৈশবে থাকা এক যুবকের জয়ের কাহিনী ফুটে উঠবে, যে ভালোবেসে জিতে গেছে৷ হারেনি৷