Today: August 5, 2026

An author, columnist and politician.

MINE

অপেক্ষার সূর্যদয়- বিচ্ছেদ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

অপেক্ষার সূর্যদয়- বিচ্ছেদ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

🌸 বিচ্ছেদ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ 🌸

দিনগুলো বদলে যাচ্ছিল। অথচ শ্রাবণের জীবনে যেন সময় থেমে গিয়েছিল।

প্রতিদিনই সে বুঝতে পারছিল, পৃথাকে ভুলে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। যতই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়, প্রতিটি সকাল আর প্রতিটি রাত তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই মানুষটার কাছেই।

অবশেষে একদিন সে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিল, যা তার নিজের কাছেও অবিশ্বাস্য লাগছিল।

শ্রাবণ দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল।
তার বিশ্বাস ছিল, দেশ বদলালে হয়তো স্মৃতিগুলোও বদলে যাবে।

খবরটা শুনে প্রথমে পৃথা খুব একটা গুরুত্ব দিল না।

তার মনে হয়েছিল, শ্রাবণ হয়তো অভিমানে এমন কথা বলছে। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন বুঝতে পারল, সত্যিই সে বিদেশে চলে যাচ্ছে, তখন তার ভেতরেও এক অদ্ভুত শূন্যতা জন্ম নিল।

ফ্লাইটের আগের রাতে অনেকক্ষণ ফোনে কথা হলো দুজনের।

শ্রাবণ :
"তুমি কি জানো, আমি সত্যিই চলে যাচ্ছি?"

পৃথা :
"হুম... জানি। কিন্তু এভাবে চলে যেতে হবে?"

শ্রাবণ :
"আর কী করার আছে? তোমার চোখের সামনে থেকেও তো তোমাকে পাওয়া সম্ভব নয়।"

পৃথা :
.............

ওপাশে নীরবতা।

শ্রাবণ :
"জীবনের আশি বসন্ত পেরোলেও আমি তোমার অপেক্ষা করব।"

পৃথা :
"তুমি এভাবে আশা নিয়ে বাঁচো না। আমি চাই না আমাদের বন্ধুত্ব স্বার্থের সম্পর্কে পরিণত হোক।"

কথাগুলো শ্রাবণের বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধল।

সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে ধীরে বলল—

"তাহলে... আমাদের বন্ধুত্বও কি এখানেই শেষ?"

পৃথা মৃদু কণ্ঠে উত্তর দিল—

"বন্ধুত্ব কখনো শেষ হয় না, শ্রাবণ।
কিন্তু ভুল আশা মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়।"

তারপর দুজনেই চুপ হয়ে গেল।

ফ্লাইটের দিন শ্রাবণ বহুবার ফোন হাতে নিয়েছিল। শেষবারের মতো পৃথার কণ্ঠটা শুনবে বলে।

কিন্তু আর সাহস হলো না।

পৃথাও আর কোনো মেসেজ পাঠাল না।

বিমান যখন ধীরে ধীরে আকাশে উড়তে শুরু করল, শ্রাবণ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

নিচে ছোট হয়ে আসছিল তার শহর...

আর সেই শহরের কোথাও একজন মানুষ ছিল, যাকে সে নিজের সমস্তটা দিয়ে ভালোবেসেও কখনো নিজের করে পায়নি।

❝ কিছু বিদায় চোখে জল আনে না,
তারা নীরবে একজন মানুষকে আজীবনের জন্য বদলে দেয়। ❞

🌿 চলবে...

SHARE:
SURONJON MOJUMDER

BY SURONJON MOJUMDER

Staff Writer at The Fox Newspaper